বাড়ি ABROAD কানাডা অভিবাসনের টুকিটাকি ১৪: দ্বৈত অভিপ্রায় নিয়ে কি কানাডায় যাওয়া যায়?

কানাডা অভিবাসনের টুকিটাকি ১৪: দ্বৈত অভিপ্রায় নিয়ে কি কানাডায় যাওয়া যায়?

দেশ থেকে নার্গিস আপা ফোন করলেন। তার ছেলে মামুন সস্ত্রীক কানাডায় থাকেন প্রায় সাত বছর। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে এসেছিলেন মামুন। পরবর্তীতে কানাডায় পিআর বা, স্থায়ী অভিবাসী হবার সুযোগ পেয়েছেন। ভালো আয়ের চাকরিও করেন।

ইতিমধ্যে তার মায়ের জন্য কানাডা ইমিগ্রেশনের (স্পনসরশিপ) আবেদন দাখিল করেছেন। এরই মাঝে সুখবর হলো মামুনের পরিবারে। নতুন অতিথি আসছে মাস চারেকের মাথায়। মামুন দেশি ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট (আরসিআইসি) হিসেবে আমাকে ফোন দিলেন তার মাকে সন্তানের জন্মের সময় অন্তত কিছুদিনের জন্য কানাডায় বেড়াতে আনা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে।

বিষয়টা আরেকটু খুলে বলি। নার্গিস আপার স্পন্সরশিপের আবেদন কানাডা সরকারের বিবেচনাধীন আছে। সে আবেদন অনুমোদিত হলে তিনি কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন; অর্থাৎ, কানাডার পিআর হয়ে যাবেন। কিন্তু, এ ধরনের আবেদন অনুমোদন হতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে বলে সাময়িক বা টেম্পোরারি (ভিজিটর) ভিসা নিয়ে তিনি তার নাতি/নাতনি দেখতে ছেলের অনুরোধে কানাডা আসতে চাইছেন। স্থায়ী অভিবাসনের (পিআর) আবেদন বিবেচনাধীন থাকাকালে অস্থায়ী অভিবাসনের (ভিজিটর ভিসা) আবেদনের বিষয়টি ডুয়েল ইনটেন্ট বা দ্বৈত অভিপ্রায় বলে গণ্য হয়।

প্রশ্ন হলো, এভাবে ডুয়েল ইনটেন্ট প্রকাশ করে কি কানাডার ভিসার আবেদন দাখিল করা যায়? উত্তর হলো- অবশ্যই যায়; কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট বা, রেগুলেশনে এ বিষয়ে বাধা নেই, যদিও দুধরনের ভিসার আবেদনের উদ্দেশ্য একেবারেই বিপরীত। তাহলে, এ ধরনের দ্বৈত অভিপ্রায়ের আবেদনে ভিসা অফিসার কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন? তা নিয়েই নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

পিআর (স্থায়ী অভিবাসন) আবেদন বিবেচনা থাকাকালীন আপনি অবশ্যই উপযুক্ত কারণ থাকা সাপেক্ষে ভিজিটর ভিসার (অস্থায়ী অভিবাসন) জন্যও আবেদন দাখিল করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভিসা অফিসার কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আনেন। যেমন, পিআর আবেদন অনুমোদিত না হলে আপনি ভিজিটর ভিসায় গিয়ে কানাডায় স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে পারেন কিনা?

এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে ভিসা অফিসার খতিয়ে করে দেখতে পারেন নিজ দেশের সাথে আপনার বন্ধন কতটা দৃঢ়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ভালো আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা দেশে আছে কিনা, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনরা দেশে বসবাস করেন কিনা, ইত্যাদি। ভিসা অফিসার যদি মনে করেন পিআর আবেদন অনুমোদিত না হলেও ভিজিটর ভিসায় কানাডায় ঢুকে সেখানে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, তখন তিনি আপনার ভিজিটর ভিসা অনুমোদন করবেন না।

বিপরীতভাবে, ভিসা অফিসার যদি সার্বিক বিবেচনায় মনে করেন যে পিআর আবেদন অনুমোদিত না হলেও নিজ দেশের সাথে দৃঢ় বন্ধনের কারণে অবৈধভাবে আপনার কানাডায় থেকে যাবার সম্ভাবনা তেমন নেই, তাহলে তিনি আপনাকে কানাডার ভিজিটর ভিসা দিতে রাজি হতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে আপনি বা আপনার পরিবারের কোন সদস্য কানাডায় ভিজিটর হিসেবে এর আগে কখনো গিয়ে সেখানে ওভার-স্টে (অনুমোদিত সময়সীমা অতিক্রম করে কানাডায় বসবাস) করেছেন কিনা সেসব বিষয়ও বিবেচনায় আনা হতে পারে। যে কোন ধরনের নেতিবাচক রেকর্ড আপনার নতুনভাবে ভিজিটর ভিসা পেতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে; তেমন কোন রেকর্ড না থাকলে আপনি অবশ্যই ভিজিট ভিসা পেতে পারেন।

প্রসঙ্গত, অস্থায়ী অভিবাসন যে কেবল ভিজিট ভিসা (টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা)-র ক্ষেত্রে হয় তা কিন্তু না। কানাডায় পড়াশোনা করতে যাওয়া, ব্যবসায়িক কাজে যাওয়া, বা সাময়িক চাকরিতে যাওয়া, ইত্যাদিও অস্থায়ী অভিবাসনের আওতায় পড়ে। এধরনের যে কোনও ক্ষেত্রেই আপনাকে ভিসা দেওয়ার সময় যেসব শর্তাবলী জোড়া হয় তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়। অন্যথায়, পরবর্তীতে কানাডার ভিসা পেতে জটিলতা হতে পারে, এমনকি, ভিসা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই, সাবধান!

নার্গিস আপার কেইস দিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম। তিনি বাংলাদেশে একটা ব্যাংকে চাকরি করতেন। এছাড়া তার অন্য সন্তানসন্ততি সবাই বসবাস করতেন বাংলাদেশেই। আর্থিক অবস্থাও ভালো বলা চলে। তার ছেলে মামুন আমাদের কোম্পানি (এমএলজি ইমিগ্রেশন)-কে তার মায়ের ভিজিট ভিসা প্রসিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা তার মাকে সফলভাবে ভিজিটর ভিসায় কানাডা আনতে সক্ষম হয়েছি। সে যাত্রায় তিনি কানাডায় ছয়মাস অবস্থানও করেন। ভিসার শর্তমতে ছয় মাসের মধ্যেই তিনি কানাডা ত্যাগ করেন। এর প্রায় বছরখানেক পর পিআর আবেদন অনুমোদিত হলে তিনি অবশেষে কানাডায় স্থায়ী অভিবাসন (পিআর) নিয়ে চলে আসেন। এভাবেই ডুয়েল ইন্টেন্ট এর একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নার্গিস আপা।

যাক, এ লেখা আর দীর্ঘ না করি। কানাডায় পড়াশোনা, বা ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোনও বিশেষ প্রশ্ন থাকলে আমাকে নিচের ইমেইল ঠিকানায় জানাতে পারেন। পরের কোনও লেখায় আপনার আগ্রহের প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়াস থাকবে। তবে, বর্তমান পর্বসহ এ সিরিজের অন্য পর্বগুলোতে কানাডা ইমিগ্রেশন বিষয়ে যে সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে তা যেন কোনভাবেই লিগ্যাল অ্যাডভাইস বা, আইনি পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা না হয়। কারণ, সুনির্দিষ্ট আইনি পরামর্শ দেওয়া হয় ব্যক্তিগত সাক্ষাতে, সাধারণ আলোচনায় নয়। অধিকন্তু, প্রত্যেকের কেইসই কোন না কোনভাবে আলাদা।

এছাড়া, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ নিয়মিত চোখ রাখুন কানাডা ইমিগ্রেশন নিয়ে আমার নতুন নতুন লেখা পড়তে। ভবিষ্যতে আপনাদের সাথে আরো অনেক মূল্যবান তথ্য সহভাগের প্রত্যাশা নিয়ে আজ এখানেই শেষ করি।